কক্সবাজার, ২০ জুলাই ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জেরে কক্সবাজারের চকরিয়ায় রাজপথে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা বিক্ষোভ, মিছিল এবং এনসিপির মঞ্চ ভাঙচুর করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ‘জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে শহীদ দৌলত ময়দানে অনুষ্ঠিত এনসিপির সমাবেশে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন:
“আওয়ামী লীগের আমলে ছিল নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমান। এখন শুনছি, কক্সবাজারের গডফাদার শিলং থেকে এসেছেন। জায়গা দখল, চাঁদাবাজি করছেন—নাম বললাম না। সংস্কার বোঝেন না, পিআর বোঝেন না।”
এই ইঙ্গিতপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিকেল ৪টায় চকরিয়া মহাসড়কে এবং পরবর্তীতে মহেশখালী, কক্সবাজার শহরসহ নানা জায়গায় প্রতিবাদ মিছিল হয়।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন:
“এনসিপি রাজনীতির নামে ব্যক্তিগত চরিত্র হননের পথে হাঁটছে। এটা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা নয়।”
“তারা একবার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, আবার একবার বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন:
“এভাবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ হারিয়ে ফেললে, এনসিপিকেও একদিন পালাতে হবে, যেভাবে আগে অনেক দল পালিয়েছে।”
এনসিপির বক্তব্যটি ছিল ব্যক্তি-ভিত্তিক ও ইঙ্গিতপূর্ণ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক রীতিতে ব্যক্তির প্রতি আক্রমণ নয়, মতাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণই গণতন্ত্রের চর্চা হিসেবে গণ্য হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে উঠে আসে:
দলীয় সতর্কতার অভাব
কৌশলগত বিপর্যয়
জনমানসে নেতিবাচক বার্তা
বিএনপির প্রতিক্রিয়া যে ‘প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া’, তা অস্বীকার করা যাবে না।
কিন্তু এনসিপির মতো একটি নতুন উদীয়মান দল যদি:
রাজনীতিতে সংঘাতের ভাষা ব্যবহার করে,
বিরোধী দলের নেতাদের হেয় করে,
এবং সমাবেশকে চরিত্রহননের প্ল্যাটফর্ম বানায়,
তবে তারা নিজেই জনগণের আস্থা হারাবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
তিনি:
২০০১–০৬ মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন
একাধিকবার স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন
২০১৫ সালে ভারতে আটক হওয়ার পরও রাজনীতিতে দৃঢ়ভাবে ফিরে আসেন
তাঁর বিরুদ্ধে “শিলং থেকে আসা গডফাদার” বলা কেবল রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত অপমানও বটে।
কক্সবাজারের জনতা এই বার্তা পরিষ্কার দিয়েছে:
“আপনারা রাজনীতি করুন, কিন্তু আমাদের নেতাদের অসম্মান করলে রাস্তায় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
বাংলাদেশের রাজনীতি এই মুহূর্তে নতুন চুক্তি, নতুন সংলাপ ও নতুন রাজনৈতিক কৌশলের সন্ধিক্ষণে।
এই সময় ব্যক্তি আক্রমণ নয়, নীতির ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রয়োজন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |